ঢাকা: দেশে জ্বালানি খাতের চলমান সংকট উত্তরণ, অনুসন্ধান জোরদার এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সরকার। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান এবং জ্বালানি তেল ও এলপিজি ব্যবসায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে সরকারের নীতিনির্ধারক ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য ও মতামত তুলে ধরেন।
সাগরে অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে আমন্ত্রণ:
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং এতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি আমন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তেলের ব্যবসা বেসরকারীকরণ ও অপপ্রচারের জবাব:
জ্বালানি তেল সরবরাহ ও ব্যবসা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব করেছিলেন। এটি নির্দিষ্ট কোনো একক কোম্পানির সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং আইন মেনে সব কোম্পানির জন্যই সমান সুযোগ তৈরি করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির প্রচারণাকে ভিত্তিহীন ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপপ্রচার বলে আখ্যা দেন তিনি।
বিদ্যুৎ ঘাটতি স্বীকার ও মেগা পরিকল্পনা:
সেমিনারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান ঘাটতির কথা স্বীকার করে জনগণের সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশে গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস এবং এলএনজি আমদানি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংকট কাটাতে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো হলো:
- নতুন এলএনজি টার্মিনাল: আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
- নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ: সরকারের বাকি সাড়ে চার বছরের মেয়াদে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
- এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার এই খাতে নিজস্ব অংশীদারিত্ব বা সরাসরি তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মত:
সেমিনারে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আজম জে চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতের বেসরকারীকরণ নিয়ে অসমাপ্ত বা চূড়ান্ত না হওয়া বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম ও ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর আলোচনা হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করে। অপরদিকে, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাপেক্সসহ দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।
[Pase News বাংলা]

