ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র কুরআনের পরেই হাদিসের স্থান। মূলত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী, কর্ম এবং সাহাবিদের বিভিন্ন কাজের মৌন অনুমোদনই হাদিস হিসেবে পরিগণিত। পবিত্র কুরআনের সার্বিক নির্দেশনাবলী ও বিধান কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে, হাদিস তারই বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে।
হাদিসের প্রধান প্রকারভেদ
মূল বক্তব্য বা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হাদিসকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
- কাওলি হাদিস: মহানবী (সা.)-এর মুখনিঃসৃত পবিত্র বাণী বা বক্তব্য।
- ফিলী হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যে কাজগুলো সম্পন্ন করেছেন এবং পরবর্তীতে সাহাবিরা তা বর্ণনা করেছেন।
- তাকরীরী হাদিস: সাহাবিদের কোনো কথা বা কাজের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নীরব সম্মতি বা অনুমোদন।
হাদিসের মান ও গ্রহণযোগ্যতা
রাবি বা বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা, স্মারकशক্তি এবং সনদের ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে হাদিসের গ্রহণযোগ্যতার মান নির্ধারণ করা হয়। এই ভিত্তিতে হাদিসকে সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) এবং জয়ীফ (দুর্বল)—এই তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়।
মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদিস সংকলন হিসেবে ‘সহিহ বুখারি’ ও ‘সহিহ মুসলিম’ সহ ‘সিহাহ সিত্তাহ’ (ছয়টি প্রধান গ্রন্থ) সর্বজনস্বীকৃত। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসনের জন্য হাদিস চর্চার বিকল্প নেই।
[ Peace News বাংলা ]

