মক্কা ও মদিনা — মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর জুমার খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের খতিবদ্বয়। এতে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা, গণক-জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়ার পরিণতি এবং ঈমানের অন্যতম শাখা হিসেবে লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ স্বপ্নের সঠিক হুকুমিয়াত ব্যাখ্যা করে গণক ও জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়ার বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, সত্য স্বপ্ন মানবের জন্য সুসংবাদ হলেও স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে শরিয়তের কোনো বিধান তৈরি বা পরিবর্তন করা যায় না।
তিনি স্বপ্নকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করেন:
- সত্য স্বপ্ন (রূয়া): মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সুসংবাদ বা সত্য ইঙ্গিত।
- দুঃস্বপ্ন: শয়তানের পক্ষ থেকে আসা ভীতিকর ভাবনা, যা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে। হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী এমন স্বপ্ন কারো কাছে প্রকাশ না করাই উত্তম।
- চিন্তার প্রতিফলন: মানুষের সারাদিনের কাজকর্ম ও ভাবনা-চিন্তার স্বাভাবিক প্রতিফলন।
শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ জোর দিয়ে বলেন, স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য যথাযথ ধর্মীয় ইলম থাকা আবশ্যক। অজ্ঞ বা অসৎ ব্যক্তির কথামতো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
অন্যদিকে, মসজিদে নববীর খতিব শায়খ খালিদ আল-মুহান্না তাঁর খুতবায় লজ্জাশীলতা ও ঈমানি আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, লজ্জা হলো নবীদের অন্যতম মহান চরিত্র এবং ঈমানের মূল ভিত্তিগুলোর একটি।
তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি থেকে মানুষের অন্তরে লজ্জাশীলতার জন্ম হয়। এটি কেবল জন্মগত গুণই নয়, বরং আত্মসংযম ও সাধনার মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব। মানুষের নৈতিক বিকাশ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই গুণ অত্যন্ত জরুরি।

