বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের কালবিলা গ্রামে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শাপলা বিল এখন অনন্য এক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সবুজ প্রকৃতির বুক চিরে কোটি কোটি লাল শাপলার ভেসে থাকার দৃশ্য যেকোনো দর্শনার্থীর চোখ জুড়িয়ে দেয়। বিলজুড়ে লাল শাপলার এমন আধিক্য দেখে স্থানীয়দের কাছে এখন এই গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে ‘শাপলা বিল’ নামে।

প্রতিবছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিলের বুকে ব্যাপকভাবে লাল শাপলা ফোটে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজের মাঝে রক্তিম এক চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসছেন। শুধু পর্যটন নয়, এই বিলের শাপলা ঘিরে নির্মিত হয়েছে নানা বিজ্ঞাপন চিত্র, যা স্থানটিকে দিন দিন আরও জনপ্রিয় করে তুলছে।
স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তাদের জন্ম থেকেই তারা এই বিলে শাপলার রূপ দেখে আসছেন। বিলে লাল, সাদা ও বেগুনি—তিন রঙের শাপলা ফুটলেও লাল শাপলার প্রাচুর্যই সবচেয়ে বেশি।

সৌন্দর্য বিকাশের পাশাপাশি এই বিল হাজারো মানুষের জীবিকার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় শত শত পরিবার বিল থেকে শাপলা তুলে ও মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে ডিসেম্বর মাসের শুরুতে শীতের আগমন ঘটার সাথে সাথে বিলের পানি কমে যায় এবং শাপলা শুকিয়ে যায়। তখন কৃষকরা সেখানে শুরু করেন ধানের আবাদ। একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ধান ও শাপলার এমন বিরল সহাবস্থান সত্যিই অনন্য।
ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে স্থানীয়দের আশা, সরকারি ও বেসরকারি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই সাতলা বিল শিগগিরই দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।
[Peace News বাংলা]

