ইসলামী ব্যাংকের ১৪১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও স্ত্রীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অনুমোদন
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চট্টগ্রাম জুবলী রোড শাখা থেকে প্রায় ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিনটি নতুন মামলা অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি (UCB) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান তথ্য ও ঘটনা সংক্ষেপ

- অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ: মোট ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা (২৭টি ভুয়া বা জালিয়াতিভিত্তিক ডিলের মাধ্যমে)।
- অর্থ পাচারের গন্তব্য: জালিয়াতি করা অর্থ দুবাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।
- তদন্তকারী দল: দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এবং পরবর্তীতে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্তকারী টিম এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- এজাহার দায়েরের স্থান: অনুমোদিত মামলা তিনটি শিগগিরই দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হবে।
আসামিদের তালিকা ও পেছনের ইতিহাস
এই ৩টি মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান ছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
- পরিবারের সদস্য ও সাবেক পরিচালকবৃন্দ: বশির আহমেদ (ভাই ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক), আনিসুজ্জামান চৌধুরী ওরফে রনি (ভাই ও সাবেক পরিচালক/ইসি কমিটির চেয়ারম্যান), আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।
- ব্যাংকের সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা: ইউসিবির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক পরিচালক এম এ সবুর, হাজী ইউনুছ আহমদ ও নুরুল ইসলাম চৌধুরী।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এর আগেও কাগজী প্রতিষ্ঠান (যেমন—ইমিনেন্ট ট্রেডার্স, ভিশন ট্রেডিং ইত্যাদি) ব্যবহার করে ১২৯ কোটি টাকা, ইউসিবি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস গ্রহণ ও আত্মসাৎসহ একাধিক দফায় প্রায় ৩০টিরও বেশি মামলা দায়ের করেছে দুদক। ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার এই নতুন তিনটি মামলা অনুমোদনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর হচ্ছে।
[ Peace News বাংলা ]

