ভোপাল: সাবেক ‘মিস পুনে’ ও করপোরেট পেশাজীবী তৃষা শর্মার (৩১) মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় আদালতে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার বিস্তারিত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। এতে স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে তৃষাকে ধাপে ধাপে চরম মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে তৃষার জীবনের শেষ ৯০ মিনিটের নির্মম ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা শুরু হয়েছিল একটি হৃদয়বিদারক বার্তার মাধ্যমে।

শেষ ৯০ মিনিটের ঘটনাপঞ্জি ও আকুতি:
গত ১২ মে রাতে মৃত্যুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে তৃষা তাঁর ভাবির হোয়াটসঅ্যাপে শেষ বার্তা পাঠিয়ে লেখেন, “ওকে বলো, স্ত্রীর যা অবশিষ্ট আছে, কাল এসে নিয়ে যাক। এখন আমাকে শান্তিতে মরতে দাও।”
সিবিআই-এর চার্জশিটে তুলে ধরা তথ্যানুযায়ী, ঘটনার রাতে যা ঘটেছিল:
- রাত ৯:২০ মিনিট: ভাবির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তৃষা। জানান, শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে স্বামীর কাছে সহযোগিতা চাইলে উল্টো আক্রমণাত্মক আচরণের শিকার হন।
- রাত ৯:৩৬ মিনিট: ভাবিকে শেষ বার্তা পাঠান তৃষা।
- রাত ৯:৪০ মিনিট: সিসিটিভি ফুটেজে তৃষাকে একা বহুতল ভবনের ছাদে উঠতে দেখা যায়।
- রাত ৯:৪১ মিনিট: বাবাকে ফোন করে আকুল কণ্ঠে জানান, স্বামী অত্যন্ত হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে এবং তাকে অবিলম্বে উদ্ধার করতে বলেন।
- রাত ১০:০৫ মিনিট: মায়ের সাথে তৃষার শেষবারের মতো কথা হয়। এরপর থেকে পরিবারের যোগাযোগের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
- রাত ১০:২৩ মিনিট: সিসিটিভি ফুটেজে শাশুড়ি ও পরবর্তীতে স্বামীকে ছাদের দিকে যেতে দেখা যায়।
- রাত ১০:৫৫ মিনিট: হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তৃষাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টানা নির্যাতন ও চরম মানসিক অস্থিরতা:
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের পর থেকেই তৃষার ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। অতীতে সম্পর্ক নিয়ে কটূক্তি, চরিত্রহনন এবং প্রায় ২০ লাখ রুপির শেয়ার বিনিয়োগ স্বামীর যৌথ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হতো। এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতকে কেন্দ্র করে তাঁকে ‘খুনি’ অপবাদ দেয় শাশুড়ি। সাবেক কর্মস্থলের তথ্যসূত্রে জানা যায়, তৃষার ফোনালাপ ও চলাফেরার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হতো, যার কারণে ফোনে কথা বলতেও তাঁকে কাছের পার্কে যেতে হতো।

সিবিআই ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ:
পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লির এইমস (AIIMS)-এর বিশেষজ্ঞ বোর্ডের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তৃষার মৃত্যু ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ফলেই হয়েছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় একে হত্যা নয়, বরং ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণের ফল হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিবিআই।
বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে তৃষার আইফোনের ডেটা, সিসিটিভি ডিভিআর এবং যৌতুক দাবির অভিযোগগুলো নিয়ে সিবিআই-এর বিস্তৃত তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
[ Peace News বাংলা ]

