পশ্চিমবঙ্গে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি পৃথক সহিংসতায় তিন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডে বাঁকুড়ায় এক রাজনৈতিক কর্মীর বাবা এবং নদীয়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর আইনজীবী ছেলে প্রাণ হারিয়েছেন। পৃথক ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঝড় বইছে।

বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার কারিশুন্ডা গ্রামে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মোহাম্মদ মাফিক নামের এক ব্যক্তিকে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণেই তাঁদের বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফিকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সিজেপির শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি থেকে এসে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি ইন্দাস থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান; অন্যথায় জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন। পরিবারটি রাজ্য সরকারের দেওয়া আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করে নিহতের স্মরণে এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নদীয়ায় কুপিয়ে ও গুলি করে কংগ্রেস নেতা-পুত্র হত্যা: গ্রেপ্তার ৩
নদীয়া জেলায় আততায়ীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ান। রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে একদল হামলাকারী প্রথমে গুলি চালায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা নিশ্চিত করে।
নিহতদের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দল জড়িত। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর দুই সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত তাঁদের ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাগুলো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত এই পৃথক হত্যাকাঙ্কগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
[ Peace News বাংলা ]

