বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা তারকা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক (২৯ বছর) পর নতুন করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও নানা ধরনের মন্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির তোলা ‘ব্ল্যাকমেল’, প্রেম ও বিয়েসংক্রান্ত নানা দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
শাবনূর স্পষ্ট জানান, সালমান শাহ তাঁর কাছে কেবল একজন প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। সালমান শাহর অকালমৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
রোববার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শাবনূর বলেন, “১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ওই লোককে আমি জীবনে কখনো সামনাসামনি দেখিইনি। এমনকি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আমি কখনো যুক্তরাজ্যে যাইনি। অথচ সে দাবি করছে, ওই সময় নাকি আমাদের বিয়ে ও বিচ্ছেদ হয়েছে! তার কথা শুনে মনে হচ্ছে, বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি, হয়তো শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছে।”
সম্প্রতি দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ দাবি করেন, শাবনূর নাকি সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন। পাশাপাশি শাবনূরের সঙ্গে তাঁর নিজের সম্পর্ক নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি শাবনূরকে মনে মনে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন; অথচ অন্য সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ২০১৬ সালে নাকি তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।
একই ব্যক্তি কেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এমন অবাস্তব ও ভিত্তিহীন গল্প ছড়াচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাবনূর। তিনি বলেন, “কখনো সে নিজেকে রাজসাক্ষী বলছে, কখনো বলছে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন, আবার কখনো আমার সঙ্গে বিয়ের মিথ্যা গল্প ফাঁদছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা কারও প্ররোচনায় পড়ে সে এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শাবনূর এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবাদমূলক পোস্ট দেন। সেখানে তাঁর হাজার হাজার ভক্ত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, এই নতুন আলোচনার মধ্যেই সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসভবন থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর আদালত মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিলে সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। সিআইডি বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে। শাবনূরসহ সালমান ভক্তদের একটাই প্রত্যাশা—স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যেন তিন দশকের এই রহস্যের জট খোলে এবং প্রকৃত দোষীরা শাস্তির আওতায় আসে।

