কিয়েভ: রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দুর্নীতির নতুন তদন্ত এবং অর্থ পাচারে যুক্ত থাকার গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে তিনি তাঁর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ইরিনা মুডরাকে বরখাস্ত করে বিশেষ ডিক্রি জারি করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইরিনা মুডরার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আসে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে তাঁর বরখাস্তের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন দেশের শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে খোদ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মাত্র এক দিন আগেই ইউক্রেনের বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন যে, দেশটিতে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফেদোরভের মতে, এই দুর্নীতি মূল সমস্যার একটি উপসর্গ মাত্র; আসল সংকট দেশের পুরো শাসনব্যবস্থায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ফেদোরভকে সরিয়ে দিয়েছিলেন জেলেনস্কি, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। নিজের অবস্থান শক্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে আগামী সপ্তাহে ফেদোরভ যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন।

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ফেদোরভের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরপর দুর্নীতির তদন্তে জেলেনস্কি প্রশাসন একটি দ্বিমুখী চাপের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সব ধরনের অভিযোগ ও নির্বাচনের দাবি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন এবং নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী উয়েভহেন খমারার নাম অনুমোদন করায় পার্লামেন্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

[ Peace News বাংলা ]

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version