দেশে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট লাঘবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে হঠাৎ জ্বালানি সংকট বৃদ্ধি, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) মেরামতে দেরি এবং নির্ধারিত সময়ে এলএনজি কার্গো না পৌঁছানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সরকারের নীতি নির্ধারক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংকটের বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
- দৈনিক গ্যাসের চাহিদা: সরকারি হিসাবমতে ৩,৮০০ এমএমসিএফডি। তবে বিশেষজ্ঞ ও শিল্প খাতের হিসেবে প্রকৃত চাহিদা ৫,০০০ এমএমসিএফডির বেশি।
- বর্তমান সরবরাহ: মোট ২,১৯৫ এমএমসিএফডি (অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১,৬২৫ এমএমসিএফডি এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ৫৭০ এমএমসিএফডি)।
- দৈনিক ঘাটতি: ১,৬০৫ এমএমসিএফডি।
- বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব: দেশে প্রায় ১২,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৭,০০০ মেগাওয়াটাই গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে।
সংকটের মূল কারণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বৈঠকে জানানো হয়, গত ১৮ বছর ধরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভরতার কারণেই আজকের এ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
- গ্যাস মজুত চিত্র: দেশে উত্তোলনযোগ্য মোট ২৯.৭৪ টিসিএফ গ্যাসের মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট আছে ৭.৬৩ টিসিএফ। নতুন কোনো ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বিদ্যমান ১,৭০০ এমএমসিএফডি উত্তোলনের হারে আর আনুমানিক ১২ বছর গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
- আমদানির ব্যয়ভার: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় গ্যাসের গড় মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৩.৩৯ টাকা হলেও আমদানিকৃত এলএনজির খরচ পড়েছে ৬৮.৭১ টাকা। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এলএনজি আমদানি ব্যয় ৬০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এক দিনে তৈরি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির বাধা দূর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করার পাশাপাশি নিজস্ব উৎস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে।
[Peace News বাংলা ]

