টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দিনে-দুপুরে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ধারণা, পরিকল্পনা অনুযায়ী মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য:

- নারীর সংকেত ও পথরোধ: ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী পালকি পরিবহনের একটি বাসকে অনুসরণ করছিল বোরকা পরা এক নারীর অটোরিকশা। তিনি মোবাইলে যোগাযোগ রেখে সংকেত দেওয়ার পরপরই হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসটির গতি রোধ করা হয়।
- লক্ষ্যভিত্তিক হামলা: পাহাড় থেকে নেমে আসা ৭-৮ জন সশস্ত্র ডাকাতের মধ্যে ৪ জন বাসে ওঠে। বাসে থাকা যাত্রীবেশে থাকা তথ্যদাতার দেখিয়ে দেওয়া মতে বিকাশ এজেন্টের তিন প্রতিনিধিকে আক্রমণ করে তারা। ডাকাতদের ছুরিকাঘাত ও মারধরে আহত হন প্রতিনিধিরা এবং তাঁদের কাছ থেকে দুটি ব্যাগে থাকা ৫৭ লাখ টাকা লুট করে ডাকাত দলটি পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
- অভ্যন্তরীণ যোগসূত্রের সন্দেহ: ডাকাতরা সরাসরি বিকাশ প্রতিনিধিদের চিনে ব্যাগ টানাহেঁচড়া করায় বাসের চালক, সহকারী বা কোনো যাত্রীর পূর্বসম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
- গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ: সোমবার রাতে লেদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলাম নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
লুট হওয়া টাকা উদ্ধার ও এই চক্রের সঙ্গে থাকা নারীসহ অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে বর্তমানে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
[ Peace News বাংলা ]

