দেশে বিনিয়োগের মন্থরগতি, রপ্তানি হ্রাস এবং ডলারের বিনিময় হারে ওঠানামার প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদায় বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও ঋণ নেওয়ার গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। নতুন ঋণ প্রবাহের চেয়ে আগের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেশি থাকায় বিদেশি ঋণের সামগ্রিক স্থিতি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
ঋণপ্রবাহ ও বর্তমান চিত্র
- সর্বনিম্ন ঋণপ্রবৃদ্ধি: অভ্যন্তরীণ বাজারে আশানুরূপ বিনিয়োগ না থাকায় এবং সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ায় গত জুন শেষে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে ৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।
- স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ: চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ১,০৪৭ কোটি ডলার, যা জুনে কমে দাঁড়ায় ১,০২৫ কোটি ডলারে। ২০২০ সালের পর করোনা-পরবর্তী সময়ে এটি দ্রুত বেড়ে ২০২২ সালে ১,৬৪২ কোটি ডলারে পৌঁছালেও এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে।
- সার্বিক বিদেশি ঋণস্থিতি: গত মার্চ শেষে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি কমে ১১,০৯৩ কোটি ডলারে নেমেছে (যা গত ডিসেম্বরে ছিল ১১,০৩৫ কোটি ডলার)। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের মোট ঋণ ২,০০২ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
ধীরগতির মূল কারণসমূহ
- গ্যাস-বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: সম্প্রতি রাজনৈতিক ও ডলারের দামের কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না।
- নীতিগত বিধিনিষেধ ও সুদের সীমা: বাংলাদেশ ব্যাংক কারখানা সম্প্রসারণে ঋণ দেওয়া সীমিত করেছে এবং স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের সুদের সীমা (SOFR + সর্বোচ্চ ৩%) কমানোয় বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে আগ্রহ কিছুটা কমেছে।
- আমদানি-রপ্তানি হ্রাস: মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির চাহিদা না থাকায় বায়ার্স ও সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা
অর্থনৈতিক মন্দা কাটানো ও শিল্পে গতি ফেরাতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (SME) বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সুসংহত হলে এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে দ্রুতই মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়ে ঋণের চাকা পুনরায় সচল হবে।
[ Peace News বাংলা ]

