স্পোর্টস ডেস্ক (পিস নিউজ): দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ও বিভিন্ন পেশাদার ক্লাবের সাথে কোটি টাকার চুক্তিতে থাকার পাশাপাশি প্রতি মাসে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা। তবে পেশাদারত্বের এই পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অতি মুনাফার লোভে গ্রাম-গঞ্জের স্থানীয় ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন তারকা খেলোয়াড়েরা। এবার জাতীয় দলের ফুটবলারদের এমন অপেশাদার আচরণ ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।


সম্প্রতি টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শেখ মোরছালিন, ফয়সাল আহমেদ ও রাকিব হোসেনের মতো জাতীয় দলের তারকা ফুটবলারদের খেপ ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল রাতে মিরপুরের কালশীতে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেখানে সরকার খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি হিসেবে নিয়মিত মাসিক ক্রীড়া ভাতা প্রদান করছে, সেখানে তাদের এভাবে খেপ খেলতে যাওয়া কতটা সমীচীন? এটি খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রতি এবং দেশের প্রতি নিবেদনের অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।”
স্থানীয় এসব নিম্নমানের মাঠে খেপ খেলার মূল ঝুঁকি হলো খেলোয়াড়দের মারাত্মক চোট পাওয়া। এসব ম্যাচের মাঠের পরিবেশ ও প্রতিপক্ষের খেলায় কোনো পেশাদার নিরাপত্তা থাকে না। ফলে সামান্য অসাবধানতায় কোনো তারকা খেলোয়াড় চোট পেলে তার প্রভাব পড়ে জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলের ওপর।
তবে এখনই কোনো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকে না গিয়ে প্রথম ধাপে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের সতর্ক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুতই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতির সাথে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, “ব্যস্ততার কারণে বাফুফে সভাপতির সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ডেকে সতর্ক করা হবে। প্রথম অবস্থায় আমরা সতর্ক বার্তা দিতে চাই, এরপরও আচরণ পরিবর্তন না হলে বাফুফের সাথে মিলে আমরা আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।”
সরকারের দেওয়া ভাতা ও ক্লাবের চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলের ফুটবলারদের এমন খেপ খেলার বিষয়ে বাফুফে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
[ Peace News বাংলা ]

