Wednesday, August 5

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

মানবিক সহায়তা ও অতীত স্মরণে প্রধানমন্ত্রী

বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আঘাত হানা ভয়াবহ প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন সি এঞ্জেলস’-এর কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মানবিক ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

যৌথ নৌমহড়া ও প্রশিক্ষণ:

মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও যৌথ নৌমহড়ায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে দুই দেশের যৌথ নৌমহড়া CARAT (Cooperation Afloat Readiness and Training) অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত Sea Vision Exercise-এ বাংলাদেশের ইতিবাচক অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে বিশ্বখ্যাত RIMPAC (Rim of the Pacific) মহড়া ও সামরিক প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।

জিএসওএমআইএ (GSOMIA) ও নিরাপত্তা সম্পর্ক

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি GSOMIA (General Security of Military Information Agreement) সংক্রান্ত পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অগ্রগতির বিষয়টি স্থান পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকার বৈদেশিক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুগোপযোগী ও বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শান্তিরক্ষা মিশনে প্রশংসা ও বাংলাদেশের বার্তা:

মার্কিন নৌ কমান্ডার আফ্রিকার বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার সুরক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই সুদৃঢ় এবং অবিনশ্বর। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

[ Peace News বাংলা ]

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version