২৪-এর জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখে গণভবনের দেয়াল যখন অবরুদ্ধ হয়ে আসছিল, তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাল্টে যাচ্ছিল দেশের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও তাঁর দেশত্যাগের নেপথ্যে ঘটেছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ:

- সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট: ৩ আগস্ট সেনা সদরের দরবারে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা সাধারণ জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না। একই সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ রাজপথে সংহতি প্রকাশ করায় সেনাপ্রধান ৪ আগস্ট রাতে শেখ হাসিনাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘ আপনার হাতে আর সময় নেই।’
- রাজনৈতিক সমাধানের ব্যর্থতা: সেনাপ্রধানের পরামর্শ ও দেশের ভেতরে জরুরি অবস্থা জারির বিকল্প আলোচনা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে দেরি করেন। তবে ৪ আগস্ট সারাদেশে সহিংসতা এবং আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আলগা হয়ে যায়


- পরিবার ও সামরিক নেতৃত্বের চাপ: ৫ আগস্ট সকালে ঢাকামুখী মানুষের ঢল (“মার্চ টু ঢাকা”) গণভবনের দিকে এগোতে থাকলে পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি জানান। জয়ের জোরালো অনুরোধ এবং শেখ রেহানার পরামর্শে অবশেষে পদত্যাগে রাজি হন শেখ হাসিনা।

- দ্রুত দেশত্যাগ: বেলা ২টা ২৫ মিনিটে গণভবনের পেছনের মাঠ থেকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে কুর্মিটোলা ঘাঁটিতে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সেখান থেকে বেলা তিনটার পর বিমানবাহিনীর সি-১৩০ পরিবহন বিমানে করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন তারা। পরে ভারতের গাজিয়াবাদে বিমানবাহিনীর হিন্দন ঘাঁটিতে নামলে তাদের স্বাগত জানান দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
শেখ হাসিনার আকস্মিক পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়েই অবসান ঘটে আওয়ামী লীগের টানা দীর্ঘদিনের শাসনের।
[ Peace News বাংলা ]

