-এ প্রকাশিত রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। ফরাসি সাংবাদিক জাক মালে দু পাঁ-র ‘বিপ্লব তার নিজের সন্তানদের গ্রাস করে’ উক্তির প্রতিধ্বনি ঘটলেও, বাংলাদেশে তরুণ সমন্বয়কদের হাত ধরে গড়ে ওঠা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এখনো টিকে রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটি এক বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি।
এনসিপি-র বর্তমান অবস্থান ও সংকট

- সংসদে অবস্থান: জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এনসিপি মাত্র ৬টি আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।
- ক্যাম্পাস রাজনীতিতে পতন: দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী জোটের প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটেছে, যা তাদের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- সংস্কার বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা: অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে সম্মত করতে পারেনি দলটি।
- অভিজ্ঞতার ঘাটতি & তহবিল সংকট: তারকা ব্যক্তিত্ব থাকলেও প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের অভাব এবং টেকসই তহবিল সংগ্রহের স্বচ্ছ কাঠামোর ঘাটতি দলটিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
রাজনৈতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা
- তরুণ ভোটারের সমর্থন: দেশের ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত করার জন্য এনসিপি এখনো সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম।
- নতুন মেরুকরণ: রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অচল অবস্থা এবং বিএনপি ও জামায়াতের ঐতিহ্যগত ধারার বাইরে এক বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা কোনো দলের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত হতে চায় না। এনসিপি এই জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ পথরেখা
যদি এনসিপি তাদের আদর্শিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং আমজনতাকে ভোটার হিসেবে রূপান্তর করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক ধারা কিংবা মধ্য-বাম ও মধ্য-ডানপন্থি শক্তি তাদের জায়গা দখল করে নেবে। ঐতিহাসিক সময় হাতছাড়া করার আগেই এনসিপি নেতাদের আত্মোপলব্ধি ও তৃণমূলভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
[ Peace News বাংলা ]

